দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে প্যাকেটজাত খাদ্যের সামনের অংশে বাধ্যতামূলক লেবেলিং (ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং-এফওপিএল) দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, ভোক্তাদের সচেতন করা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিষয়টি এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকার বিকল্প নেই।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে প্যাকেটজাত খাদ্যের সামনের অংশে লেবেলিং (এফওপিএল) বিষয়ক গণমাধ্যম প্রচারাভিযান’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, দেশে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্থূলতা ও কিডনি রোগের মতো অসংক্রামক রোগ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই এসব প্রতিরোধযোগ্য রোগের কারণে ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও চর্বির উপস্থিতি মানুষকে নীরবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শিশু ও তরুণদের সুরক্ষায় এফওপিএল নীতিমালা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। এ বিষয়ে সরকার প্রবিধান তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বাংলাদেশে সহজ ও বাধ্যতামূলক এফওপিএল নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ চলছে। অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে নিরাপদ খাদ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতিক ইজাজ বলেন, নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনগণের সচেতনতা বাড়ানো এবং নীতিনির্ধারকদের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করতে সাংবাদিকদের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।
বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ সামসুন নাহার মহুয়া বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি আসক্তি বাড়ছে, যা অল্প বয়সেই স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই খাদ্যপণ্যের সামনের অংশে সহজ সতর্কতামূলক লেবেল ভোক্তাদের স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচন সহজ করবে।
বাংলাভিশনের সিনিয়র নিউজ এডিটর আবু রুশদ মো. রুহুল আমিন বলেন, এফওপিএল এমন একটি সহজ সংকেত, যা খাদ্যপণ্যে অতিরিক্ত ক্ষতিকর উপাদান সম্পর্কে কয়েক সেকেন্ডেই ভোক্তাকে সতর্ক করে। চিলি ও মেক্সিকোর মতো দেশে এই ব্যবস্থা চালুর ফলে ভোক্তাদের সচেতনতা যেমন বেড়েছে, তেমনি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও স্বাস্থ্যকর পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত হয়েছে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, জনস্বাস্থ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এবং জনসচেতনতা গড়ে তুলতে বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার, খাদ্য শিল্প, গবেষক, ভোক্তা অধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাধ্যতামূলক এফওপিএল নীতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানান তারা।
এমএস/